সরিষা ফুলের মধুর নিজস্ব কিছু অনন্য প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা একে অন্যান্য মধু থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে। নিচে এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হলো:
দ্রুত জমে যাওয়ার প্রবণতা (Crystallization):
এটি সরিষা ফুলের মধুর সবচেয়ে বড় এবং প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই মধুতে প্রাকৃতিক গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি সংগ্রহের কয়েক দিন বা সপ্তাহের মধ্যেই প্রাকৃতিকভাবে জমে যায়। জমে যাওয়ার পর এটি দেখতে অনেকটা দেশি ঘি বা ডালডার মতো দানাদার ও সাদাটে হয়ে যায়।
রঙ ও রূপ: সম্পূর্ণ তরল অবস্থায় এই মধু হালকা হলুদ বা সোনালী রঙের হয়। তবে জমে গেলে এর রঙ পরিবর্তন হয়ে সাদা, অফ-হোয়াইট বা ক্রিমি বর্ণ ধারণ করে।
স্বাদ: এটি খুব কড়া বা উগ্র মিষ্টি হয় না। মুখে দিলে একটি মোলায়েম ও হালকা মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায়, যা সাধারণত সবার কাছেই বেশ উপাদেয় লাগে।
সুগন্ধ: এই মধুতে সরিষা ফুলের খুব হালকা, স্নিগ্ধ এবং প্রাকৃতিক একটি সুবাস থাকে। কোনো কড়া গন্ধ এতে থাকে না। তবে বয়সের সাথে সাথে এর ঘ্রান তীব্র হয়।
ঘনত্ব: অন্যান্য অনেক মধুর (যেমন: কালোজিরা বা সুন্দরবনের মধু) তুলনায় সরিষা ফুলের মধু প্রাকৃতিকভাবেই বেশ ঘন হয়ে থাকে।
গ্রাহকদের কাছে খাঁটি বা রিয়েল হানি তুলে ধরার ক্ষেত্রে মধুর এই দ্রুত জমে যাওয়ার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যটি সম্পর্কে তাদের আগে থেকে জানিয়ে রাখা বেশ দারুণ একটি পদক্ষেপ হতে পারে। কারণ, আমাদের দেশে অনেকেই জমে যাওয়া মধুকে চিনি মেশানো বা ভেজাল ভেবে ভুল করেন।